আহমেদাবাদ: ভারতীয় রেলের জ্বালানি ব্যবহারে নতুন প্রযুক্তির সংযোজন। রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আহমেদাবাদের সাবরমতী রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের প্রথম LNG-ডিজেল ডুয়াল-ফুয়েল DEMU ট্রেনের উদ্বোধন করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ট্রেনটির যাত্রার সূচনা করেন। একই অনুষ্ঠানে সাবরমতী স্টেশন ও রেলের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয়।

এই নতুন ট্রেনের বিশেষত্ব হল, এটি শুধুমাত্র LNG-র উপর নির্ভরশীল নয়। ট্রেনের ইঞ্জিনে এমন ডুয়াল-ফুয়েল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একই ইঞ্জিন LNG এবং ডিজেল—দুই ধরনের জ্বালানিতেই চলতে পারে। ফলে জ্বালানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনমতো দুই জ্বালানির মধ্যে ব্যবহার পরিবর্তন করা সম্ভব।

কীভাবে কাজ করবে LNG প্রযুক্তি?

এই প্রকল্পের আওতায় দুটি Driving Power Car (DPC)-কে LNG-ডিজেল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি DPC-র ইঞ্জিনের ক্ষমতা ১,৪০০ হর্সপাওয়ার। নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই দুই DPC-তে ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি ফিল্ড ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় প্রযুক্তিটির কর্মক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, LNG ব্যবহারের ফলে ডিজেলের ব্যবহার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। এর পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এবং পার্টিকুলেট ম্যাটারের মতো দূষণকারী উপাদানের নির্গমনও কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

জ্বালানি খরচেও হতে পারে সাশ্রয়

ট্রায়ালের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় রেল অনুমান করেছে, আট কোচের একটি রেকে বছরে প্রায় ২৩.৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জ্বালানি খরচ সাশ্রয় হতে পারে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ LNG ও ডিজেলের বাজারদর, ট্রেন পরিচালনার পরিস্থিতি এবং LNG ব্যবহারের অনুপাতের উপর নির্ভর করবে।

প্রতিটি DPC-তে প্রায় ২,২০০ লিটার ধারণক্ষমতার LNG ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। এতে আনুমানিক ৯৫০ থেকে ১,০০০ কেজি ব্যবহারযোগ্য LNG রাখা যায়। রেলের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী, ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণ ভর্তি থাকলে একটি DPC প্রায় ৪৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত চলার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে পারে।

রেলের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন

LNG-চালিত এই ট্রেনকে ভারতীয় রেলের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৬ সালে দেশে হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার LNG-ডিজেল ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির সংযোজন রেলের জ্বালানি ব্যবস্থায় আরও একটি পরীক্ষামূলক অধ্যায় যোগ করল।

সাবরমতীতে LNG ট্রেন উদ্বোধনের পাশাপাশি এদিন WAG-12 লোকোমোটিভ মেনটেন্যান্স শেড-ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয় এবং রেলের আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনা করা হয়।

ভারতীয় রেলের বিকল্প জ্বালানি ও কম দূষণকারী প্রযুক্তির দিকে এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিয়মিত পরিষেবায় প্রযুক্তিটির বাস্তব কর্মক্ষমতা, জ্বালানির দাম এবং LNG সরবরাহ ব্যবস্থার উপর।