দুবাই–তেল আভিভ: বিমানে সাধারণত যাত্রীরা পাইলটের উপরই ভরসা করে নিশ্চিন্তে আকাশপথ পাড়ি দেন। কিন্তু বুধবার সেই cockpit-এই ঘটে গেল অস্বাভাবিক ঘটনা। Flydubai-এর FZ1073 বিমানে এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রী ও cabin crew cockpit-এ ঢুকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।

ঘটনাটি ঘটে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি Boeing 737 MAX 8 বিমানে। ইজরায়েলগামী বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমার কাছে থাকার সময় cockpit-এ দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর বিমানটির উচ্চতা অস্বাভাবিক দ্রুত কমে যায় এবং জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইজরায়েল বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠায়।

কী ঘটেছিল?

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের নাগরিক এক কো-পাইলট বিমানের পাইলট স্মিত মাচ্ছরের ওপর হামলা করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এর ফলে বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়।

জানা গেছে, গুরুতর আহত হওয়ার পরও পাইলট মাচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও crew সদস্য ককপিটে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। পরে বিমানটির গতিপথ তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের ক্রু সদস্যরা পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেন। বিমানে থাকা সব যাত্রী ও crew সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে কী কারণ বা উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আহত পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার এবং তিনি ভারতীয় নাগরিক। তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। অভিযুক্ত সহ-পাইলটকেও সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই বদলে গিয়েছিল পরিস্থিতি

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪,০০০ ফুট নেমে যায়। এত দ্রুত উচ্চতা হারানোর পরও বিমানটি নিয়ন্ত্রণে এনে নিরাপদে অবতরণ করা সম্ভব হয়। যাত্রীদের কয়েকজন পরে জানান, সেই সময় তাঁরা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে মনে করেছিলেন।

ঘটনার কারণ এবং অভিযুক্ত পাইলটের উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন। ইজরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হামলা হিসেবে বর্ণনা করলেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এর নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ছিনতাই বলে মনে করা হলেও পরে ইজরায়েলি কর্মকর্তারা এটিকে সাধারণ অর্থে ‘হাইজ্যাকিং’ নয়, বরং cockpit-এ ঘটে যাওয়া একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিমানে থাকা যাত্রীদের সবাইকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বিমান নিরাপত্তার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।