বিশেষ প্রতিবেদন: একসময় মোবাইল ফোনে গান শুনতে হলে তারযুক্ত earphone লাগত, কম্পিউটার থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য পাঠাতে cable-এর প্রয়োজন হতো। ফোন থেকে wireless speaker-এ গান বাজানো বা smartwatch-কে মোবাইলের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও তখন কল্পনার মতো ছিল।

আজ সেই কাজগুলিই আমরা কয়েক সেকেন্ডে করে ফেলি। ফোনের Bluetooth চালু করলেই wireless headphone, speaker, keyboard, mouse, smartwatch কিংবা গাড়ির infotainment system-এর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায়।

কিন্তু এই ছোট্ট Bluetooth প্রযুক্তির পিছনে রয়েছে কয়েক দশকের গবেষণা, wireless communication-এর এক অভিনব পদ্ধতি এবং এমন একটি নামের গল্প, যার সঙ্গে প্রযুক্তির চেয়ে মধ্যযুগীয় এক রাজার সম্পর্ক বেশি!

Bluetooth-এর জন্ম কীভাবে?

Bluetooth-এর শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে। সুইডেনের Ericsson-এর গবেষকেরা এমন একটি short-range wireless technology তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা electronic device-এর মধ্যে cable ছাড়াই voice এবং data আদান-প্রদান করা যায়।

মূল লক্ষ্য ছিল খুব সাধারণ-তারকে সরিয়ে wireless connection তৈরি করা।

প্রথমদিকে এটি বিশেষ করে mobile phone এবং অন্য electronic device-এর মধ্যে যোগাযোগের একটি wireless বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়েছিল। পরে Ericsson, IBM, Intel, Nokia এবং Toshiba-সহ একাধিক সংস্থা এই প্রযুক্তিকে একটি অভিন্ন standard হিসেবে গড়ে তোলার কাজে যুক্ত হয়।

১৯৯৬ সালে Intel, Ericsson এবং Nokia short-range wireless technology-কে standardise করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করে। এর পরের ধাপেই তৈরি হয় একটি শিল্প-ভিত্তিক সংগঠন, যা Bluetooth-কে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রযুক্তি না রেখে বিভিন্ন নির্মাতার device-এর মধ্যে compatible করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

Bluetooth Special Interest Group বা Bluetooth SIG কী?

২০ মে ১৯৯৮-এ Bluetooth Special Interest Group বা Bluetooth SIG আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সংস্থাগুলির মধ্যে ছিল Ericsson, IBM, Intel, Nokia এবং Toshiba।

Bluetooth SIG-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তিগত standard তৈরি করা, যাতে আলাদা আলাদা কোম্পানির তৈরি device-ও Bluetooth-এর মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

ভাবুন, একটি কোম্পানি তৈরি করল headphone, অন্য কোম্পানি তৈরি করল smartphone এবং তৃতীয় একটি কোম্পানি তৈরি করল laptop। যদি প্রত্যেকের wireless communication-এর নিয়ম আলাদা হয়, তাহলে তারা একে অপরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবে না।

Bluetooth SIG-এর standardisation-এর ফলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।

আজ Bluetooth শুধু headphone বা mobile phone-এর প্রযুক্তি নয়। Bluetooth Classic মূলত wireless audio এবং data transfer-এর মতো কাজে ব্যবহৃত হয়, আর Bluetooth Low Energy বা Bluetooth LE কম শক্তি খরচের connectivity, wearable device, sensor, positioning এবং IoT-এর মতো নানা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

Bluetooth কীভাবে কাজ করে?

এবার আসা যাক সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশে।

Bluetooth কোনও cable ব্যবহার করে না। এটি radio wave ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা device-এর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে।

Bluetooth-এর radio communication মূলত 2.4 GHz ISM (Industrial, Scientific and Medical) band ব্যবহার করে। Bluetooth Classic-এর ক্ষেত্রে 2.4 GHz band-এ 79টি channel ব্যবহৃত হয়, আর Bluetooth LE 40টি channel ব্যবহার করে।

ধরুন আপনার smartphone একটি Bluetooth headphone-এর সঙ্গে connected।

ফোন যখন একটি গান বা voice data পাঠায়, সেই digital information radio signal-এর মাধ্যমে headphone-এর দিকে যায়। Headphone সেই signal গ্রহণ করে data decode করে এবং সেটিকে আবার audio signal-এ রূপান্তরিত করে।

অর্থাৎ খুব সরলভাবে-

Digital data → Radio signal → Bluetooth connection → Receiver → Digital data → Sound

এই পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত ঘটে যে আমাদের কাছে মনে হয় ফোন এবং headphone যেন সরাসরি কথা বলছে।

কিন্তু 2.4 GHz band-এ এত device থাকলে interference হয় না?

এখানেই Bluetooth-এর অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত প্রযুক্তি কাজ করে।

একই 2.4 GHz band-এ Wi-Fi-সহ আরও বিভিন্ন wireless technology কাজ করে। ফলে একই জায়গায় অনেক device থাকলে radio interference হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। Bluetooth এই সমস্যার মোকাবিলায় ব্যবহার করে Frequency Hopping বা Frequency-Hopping Spread Spectrum (FHSS) প্রযুক্তি।

Frequency Hopping কী?

সহজভাবে বললে, Bluetooth একটি নির্দিষ্ট radio frequency-তে স্থির হয়ে বসে থাকে না।

বরং communication চলার সময় এটি দ্রুত এক channel থেকে অন্য channel-এ লাফাতে থাকে।

ধরুন, দুটি Bluetooth device-এর মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। তারা আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট channel-selection বা hopping pattern অনুসরণ করে। এরপর কিছু সময় পরপর দুটো device-ই একইভাবে frequency পরিবর্তন করে।

ফলে কোনও একটি frequency-তে অন্য wireless signal-এর সঙ্গে interference হলেও Bluetooth-এর পুরো communication বন্ধ হয়ে যায় না।

Bluetooth-এর প্রযুক্তিগত specification অনুযায়ী, Classic Bluetooth-এর hopping pattern 79টি frequency channel-এর মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। Bluetooth LE-তে 40টি channel রয়েছে, যার মধ্যে connected data communication-এর জন্য 37টি general-purpose channel ব্যবহৃত হয়।

আরও বুদ্ধিমান Adaptive Frequency Hopping

Bluetooth এখানেই থেমে থাকেনি।

আধুনিক Bluetooth technology Adaptive Frequency Hopping (AFH) ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ কোনও channel-এ যদি বারবার interference দেখা যায়, system সেই channel-কে এড়িয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো channel ব্যবহার করতে পারে।

সহজ উদাহরণ দিলে-

ধরুন একটি রাস্তার ১০টি lane রয়েছে। Bluetooth দেখল ২ নম্বর এবং ৭ নম্বর lane-এ প্রচণ্ড traffic। তখন সে বারবার সেই lane ব্যবহার না করে বাকি তুলনামূলক ফাঁকা lane-গুলির মধ্যে communication ছড়িয়ে দিতে পারে।

ফলে crowded wireless environment-এ connection আরও নির্ভরযোগ্য হয়।

Bluetooth-এর নাম Bluetooth কেন?

এবার আসা যাক এই প্রযুক্তির সবচেয়ে মজার গল্পে।

Bluetooth কোনও acronym নয়।

এর পূর্ণরূপ “Something Something Technology” নয়। নামটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে প্রায় এক হাজার বছর আগের এক Scandinavian রাজার।

তিনি হলেন King Harald “Bluetooth” Gormsson।

দশম শতাব্দীর এই রাজা Denmark এবং Norway-কে একত্রিত করার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর একটি দাঁতের গাঢ় নীল-ধূসর রঙ ছিল বলে তাঁর ডাকনাম হয়ে যায় Bluetooth।

কিন্তু একজন পুরনো রাজার নামের সঙ্গে wireless technology-এর সম্পর্ক কী?

রাজা Harald-এর সঙ্গে Bluetooth technology-এর মিল কোথায়?

১৯৯৬ সালে যখন Intel, Ericsson এবং Nokia-র মতো সংস্থাগুলি একটি short-range wireless standard নিয়ে কাজ করছিল, তখন Intel-এর Jim Kardach একটি অস্থায়ী code name হিসেবে “Bluetooth” নামটি প্রস্তাব করেন।

যুক্তিটা ছিল সুন্দর।

রাজা Harald Bluetooth যেমন Denmark ও Norway-কে একত্রিত করেছিলেন, তেমনই নতুন wireless technology-র লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ধরনের electronic device এবং industry-কে একটি common wireless link-এর মাধ্যমে একত্রিত করা।

অর্থাৎ-

Harald Bluetooth → মানুষ ও রাজ্যকে একত্রিত করেছিলেন

Bluetooth technology → device-কে একত্রিত করবে

নামটি আসলে স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল না। এটি ছিল একটি temporary code name।

Bluetooth-এর নাম বদলে যাওয়ার কথা ছিল!

আরও মজার বিষয় হল, Bluetooth নামটি প্রথমে final name হিসেবে বেছে নেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে RadioWire এবং PAN (Personal Area Networking)-এর মতো নাম বিবেচনা করা হয়েছিল। PAN তখন সম্ভাব্য নামগুলির মধ্যে এগিয়ে ছিল। কিন্তু trademark ও internet search-এর নানা সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত Bluetooth নামটিই থেকে যায়।

একটি temporary code name-ই শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত technology brand।

Bluetooth logo-তেও লুকিয়ে আছে Harald-এর গল্প

Bluetooth-এর logo-টিও নিছক একটি নকশা নয়।

এটি দুটি Younger Futhark runes-Hagall এবং Bjarkan-কে মিলিয়ে তৈরি। এই দুটি rune দিয়ে Harald Bluetooth-এর initials বোঝানো হয়।

অর্থাৎ আপনার ফোনের Bluetooth icon-এর মধ্যেও হাজার বছর আগের একজন Scandinavian রাজার নামের ইতিহাস লুকিয়ে আছে!

২০০০ সালে Bluetooth-এর বাণিজ্যিক যাত্রা

প্রযুক্তিটি standard হিসেবে তৈরি হওয়ার পর ধীরে ধীরে consumer electronics-এ প্রবেশ করতে শুরু করে।

Bluetooth technology-র প্রথম commercial products-এর মধ্যে ২০০০ সালে PC card এবং Bluetooth-enabled mobile phone বাজারে আসে।

তারপর শুরু হয় দ্রুত বিস্তার।

Mobile phone → wireless headset → laptop → mouse → keyboard → speaker → car → smartwatch → fitness band → medical device → smart home।

একসময় যে প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ছিল মূলত cable replacement, সেটিই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল short-range wireless connectivity-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ standard।

Bluetooth শুধু গান শোনার প্রযুক্তি নয়

আজ Bluetooth-এর ব্যবহার অনেক বিস্তৃত।

Wireless headphone বা speaker-এর পাশাপাশি Bluetooth LE ব্যবহার করা হচ্ছে-

Bluetooth LE-তে point-to-point, broadcast এবং mesh communication-এর মতো বিভিন্ন topology সমর্থিত।

একটি ছোট wireless technology থেকে বিশাল ecosystem

Bluetooth-এর ইতিহাস আসলে শুধু একটি radio technology-র ইতিহাস নয়।

এটি দেখায় কীভাবে একটি সাধারণ সমস্যা-“কীভাবে cable ছাড়া কাছাকাছি থাকা device-গুলিকে যুক্ত করা যায়?”-থেকে একটি বিশ্বব্যাপী technology ecosystem তৈরি হতে পারে।

১৯৯০-এর দশকে যার লক্ষ্য ছিল cable-এর বিকল্প তৈরি করা, আজ সেই Bluetooth আমাদের headphone, watch, car, keyboard, speaker এবং অসংখ্য smart device-এর নেপথ্যে কাজ করছে।

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার?

প্রতিদিন আমরা যে Bluetooth icon-এ tap করি, তার মধ্যে এখনও লুকিয়ে রয়েছে হাজার বছর আগের এক Viking রাজার গল্প।

একজন রাজা দেশকে এক করেছিলেন।

আর তাঁর নাম ধার করে তৈরি technology আজ পৃথিবীর কোটি কোটি device-কে একে অপরের সঙ্গে কথা বলাচ্ছে।