নয়াদিল্লি: ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ছেলে মালহার পাটেকরও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

জানা গিয়েছে, গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে থাকাকালীন ভোরে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট CPR দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে তাঁকে ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

অভিনয়ে স্বতন্ত্র এক পরিচয়

নানা পাটেকরের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে। পরবর্তী কয়েক দশকে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় একের পর এক মনে রাখার মতো চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘খামোশি’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘নটসম্রাট’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের বিশেষভাবে প্রশংসা পেয়েছে।

শুধু গম্ভীর চরিত্র নয়, ‘Welcome’ ছবিতে উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর কমেডি অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। ফলে খলনায়ক, পুলিশ অফিসার, সাধারণ মানুষ কিংবা কমেডি চরিত্র, বিভিন্ন ধরনের ভূমিকাতেই নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পুরস্কার থেকে পদ্মশ্রী

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মান পেয়েছেন। তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এবং ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

জীবনের শেষ পর্বেও সিনেমার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ‘Housefull 5’-এর মতো ছবিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর অভিনয়ের নিজস্ব ধরন, সংলাপ বলার শক্তিশালী ভঙ্গি এবং চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতা তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় অভিনেতা করে রেখেছে।

প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর যে বৈচিত্র্যময় চরিত্রের উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তাঁর চলে যাওয়ার পর সেই অভিনয়-ঐতিহ্যই নিঃসন্দেহে তাঁকে দর্শকদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে।